অন্ধকারের ছায়া: দত্ত বাড়ির অন্দরমহল

দুই মেরুর দুই বাসিন্দা

দত্ত পরিবারের বড় বউ পরমা এবং ছোট বউ সুমনা—একই ছাদের তলায় বাস করলেও তারা যেন উত্তর আর দক্ষিণ মেরু। পরমা খাঁটি গৃহবধূ। ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত তার জগৎ বলতে এই চার দেওয়ালের সংসার, রান্নার মশলা, আর শাশুড়ি মায়ের পছন্দ-অপছন্দের খেরোখাতা। অন্যদিকে, ছোট বউ সুমনা একটি নামী বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে। সে আধুনিকা, স্পষ্টবক্তা এবং নিজের আত্মসম্মান নিয়ে সচেতন।

শাশুড়ি কমলা দেবীর কোনোদিনই চাকরিজীবী বউ পছন্দ ছিল না। তাঁর পুরোনো ধ্যানধারণা বলত, মেয়েরা চাকরি করলে সংসারের শ্রী নষ্ট হয়, মনোযোগ কমে যায়। কিন্তু ছোট ছেলে ঋতম সুমনাকে ভালোবাসত। ছেলের একরোখা জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনে কমলা দেবী সুমনাকে ঘরের ছোট বউ করে আনতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে মনে মনে একটা দূরত্ব রয়েই গিয়েছিল। সম্বন্ধ করে ধুমধাম করে বিয়ে হওয়া বড় ছেলে আকাশের বউ পরমা তাই শুরু থেকেই ছিল কমলা দেবীর অত্যন্ত প্রিয় পাত্রী।

সুমনা সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অফিসে থাকে। কর্পোরেট লাইফের মারাত্মক চাপ সামলেও সে কিন্তু ফাঁকিবাজ ছিল না। অফিসে যাওয়ার আগে ভোরবেলা উঠে এবং রাতে ক্লান্ত হয়ে ফিরে এসে যতটুকু সম্ভব সংসারের কাজে হাত লাগাত। কিন্তু পরমা তা মানতে পারত না। তার মনে হতো, সুমনা খুব আয়েশে আছে।

রান্নাঘরের ঠাণ্ডা লড়াই

একদিন সকালের ঘটনা। রান্নাঘরের সিংকে রাতের একগাদা বাসন মাজছিল পরমা। সুমনা তখন স্নান সেরে শুদ্ধ কাপড়ে ঠাকুরের জন্য ফুল তুলে সবে রান্নাঘরে ঢুকেছে ময়দা মাখতে। পরমা ওকে দেখেই কপালে একটা বিরক্তির ভাঁজ ফেলে তার চিরাচরিত খোঁচাটা ছুঁড়ে দিল। — "তোর কপালটা দেখলে হিংসে হয় রে ছোট! সংসারের খাটুনি বলতে তো তোর কিছুই নেই। সকাল দশটায় ব্যাগ কাঁধে রাজকন্যার মতো বেরিয়ে গেলি, আর রাত আটটায় ফিরলি। কী সুন্দর জীবন তোর!"

সুমনা ময়দা মাখতে মাখতেই শান্ত গলায় হেসে জবাব দিল, — "কেন দিদি? অফিসে যাওয়ার আগে তো তোমার সাথে সব কাজ গুছিয়ে দিয়ে যাই। আবার রাতে ফিরেও তো রান্নার তদারকি আমিই করি।"

পরমা মুখটা ওল্টাল। একটা কলাই করা হাঁড়ি ধুতে ধুতে বলল, — "তা করিস বটে। কিন্তু এই বাড়িতে কে কখন খাবে, কার প্রেসারের ওষুধ ফুরোলো, কোন জিনিসটা বাজারে অর্ডার দিতে হবে—এসবের আসল খোঁজ তো আমাকেই রাখতে হয়। তুই বেরিয়ে গেলে সংসারের পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব আমার একার ঘাড়ে চাপে।"

সুমনা তখন সকালের জলখাবার বানাতে ব্যস্ত। রুটিগুলো চাটু থেকে সেঁকে হটপটে রাখছে, ওদিকে গ্যাসে তরকারি ফুটছে। সে খুন্তিটা নাড়তে নাড়তে বলল, — "তাহলে একটা কাজ করো না দিদি। একজন ভালো কাজের লোক রেখে নাও। তোমার কষ্টটাও অনেক কমে যাবে।"

পরমা একটা কৃত্রিম তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল, — "আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ রে ছোট। কাজের লোক রাখা কি এতই সহজ? আজকাল কাজের লোকেদের যা মাইনে, তার জন্য তো অনেক টাকা লাগে। আমাদের তো আর ওড়ার টাকা নেই!" — "যদি টাকারই সমস্যা হয়, তাহলে কাজের লোকের পুরো খরচটা আমি দেব। তুমি শুধু একজন ভালো মানুষ দেখে রেখে নাও," অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল সুমনা।

এই কথাটি পরমার অহংকারে তীব্র আঘাত করল। তার মুখটা মুহূর্তের মধ্যে গম্ভীর হয়ে গেল। হাতের বাসনটা সশব্দে নামিয়ে রেখে বলল, — "আমাকে টাকার গরম দেখাস না ছোট। তোর টাকা আছে বলে তুই সবকিছুই এত সহজ ভাবিস। আর সবচেয়ে বড় কথা, শাশুড়ি মা বাড়িতে বাইরের কাজের লোক একদম পছন্দ করেন না।"

তারপর দুপুরের তরকারির জন্য আনাজ কাটতে কাটতে পরমা আবার সুর চড়াল, — "তুই না হয় চাকরি করিস। শাশুড়ি মাকে তেল দিয়ে খুশি রাখার তোর কোনো দরকার নেই। কিন্তু আমার তো এই সংসারটাই সব। আমি ওনাকে রাগিয়ে নিজের পায়ে কুড়ুল মারতে পারব না।"

সুমনা আর কথা বাড়াল না। সে বিতর্ক এড়িয়ে চলতে ভালোবাসে। হাত ধুয়ে নিজের অফিসের প্রস্তুতি নিতে ঘরের দিকে চলে গেল।

আসলে পরমার একটা গভীর হিসেব ছিল। সে সবসময় শাশুড়ি কমলা দেবীকে নিজের হাতের মুঠোয় রাখতে চাইত। কারণ তার বিশ্বাস ছিল, বাড়ির সর্বময়ী কর্ত্রীকে যদি সে নিজের সেবাদাসী সুলভ আচরণ দিয়ে খুশি রাখতে পারে, তবে বড় বউ হিসেবে দত্ত বাড়িতে তার কর্তৃত্ব কোনোদিন কমবে হৈতে কমবে না। তাই কমলা দেবীর পছন্দ-অপছন্দের দিকে চব্বিশ ঘণ্টা নজর রাখত সে। সময়মতো চা দেওয়া, ওনার প্রিয় পদ রান্না করা, দুপুরে মাথায় তেল দেওয়া, রাতে পা টিপে দেওয়া—সবকিছুই করত পরমা। কিন্তু এই অমানুষিক যত্নের পেছনে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চেয়ে স্বার্থের গন্ধই বেশি ছিল। কমলা দেবীর লকারে কিছু চমৎকার প্রাচীন সোনার গয়না ছিল। পরমার স্থির ধারণা ছিল, বড় বউ হিসেবে সেই গয়নাগুলোর আসল হকদার একমাত্র সে-ই।

অন্যদিকে সুমনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বভাবের। সে অন্যায় দেখলে মুখের ওপর প্রতিবাদ করত, কাউকে খুশি করার জন্য তোষামোদি বা মিথ্যা প্রশংসা তার ধাতে ছিল না। এই কারণেই শাশুড়ির সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনোদিন মধুর হয়নি। বিয়ের পর প্রথম দিনই কমলা দেবী তাকে একা ডেকে স্পষ্ট ভাষায় এক চরম শর্ত দিয়েছিলেন— "শোনো ছোট বউমা, চাকরি করবে করো। কিন্তু বাপের বাড়িতে নিজের রোজগারের টাকা পাঠানো চলবে না। আর এই বাড়ির সংসারের খরচেও তোমাকে বড় অংশ দিতে হবে।"

সুমনা বিনা দ্বিধায় তাতে রাজি হয়ে গিয়েছিল। কারণ সে মনে করত, বিয়ের পর এই বাড়িটাই তার নিজের। সংসারের প্রয়োজনে সে কখনো এক পয়সা খরচ করতে কার্পণ্য করত না। নিজের জন্য ভালো কিছু কিনলে সে শাশুড়ির জন্য দামী শাড়ি আনত, পরমার জন্যও উপহার আনত। তবু কমলা দেবীর মন থেকে ওই ‘চাকরিজীবী অহঙ্কারী বউ’-এর তকমাটা সে মুছতে পারেনি।

নিয়তির পাশা উল্টে যাওয়া

সময় তার নিজের নিয়মেই চলছিল। হঠাৎ একদিন পরমার বাপের বাড়ি থেকে খবর এলো, তার মা অত্যন্ত অসুস্থ। বড় বউ হিসেবে পরমাকে তড়িঘড়ি কয়েকদিনের জন্য বাপের বাড়ি যেতে হলো। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক সেই সময় সুমনাও নিজের অফিস থেকে একটা জরুরি অডিট শেষ করে কয়েকদিনের জন্য ছুটি নিয়েছিল। বাড়িতে তখন শুধু সুমনা আর শাশুড়ি কমলা দেবী। পুরুষ মানুষেরা যে যার কাজে ব্যস্ত।

সেদিন সকালে হঠাৎ বাথরুম থেকে একটা বিকট আছাড় খাওয়ার শব্দ এবং গোঙানি শুনতে পেল সুমনা। সে হাতের কাজ ফেলে তীব্র গতিতে ছুটে গেল। বাথরুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে সে যা দেখল, তাতে তার গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। কমলা দেবী মেঝের ওপর অচৈতন্য হয়ে পড়ে আছেন, আর ওনার মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে।

বাড়িতে তখন আকাশ বা ঋতম কেউই ছিল না, ফোন করেও তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। সুমনা এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। সে চিৎকার করে পাড়ার প্রতিবেশীদের ডাকল। নিজের উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে একটা ট্যাক্সি জোগাড় করে কমলা দেবীকে দ্রুত শহরের বড় হাসপাতালে নিয়ে গেল। হাসপাতালের ইমার্জেন্সির ফর্ম ফিলাপ করা, নিজের ক্রেডিট কার্ড থেকে চিকিৎসার অগ্রিম টাকা জমা দেওয়া, ডাক্তারদের সাথে কথা বলা, প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ কিনে আনা—সবকিছু একহাতে, ঝড়ের গতিতে সামলাল সুমনা।

অপারেশন থিয়েটারের বাইরে যখন সে একা দাঁড়িয়েছিল, তখন তার শাড়ির আঁচল শাশুড়ির রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তারবাবু বাইরে এসে যখন বললেন, "ঠিক সময়ে হাসপাতালে না আনলে পেশেন্টকে বাঁচানো যেত না," তখন সুমনার চোখে জল এসে গিয়েছিল।

দুদিন পর কমলা দেবীকে যখন নিরাপদে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলো, তখন তিনি বিছানায় শুয়ে শুয়ে এক দৃষ্টিতে ঘরের সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন। যে মেয়েটাকে তিনি চিরকাল পর ভেবে এসেছেন, যার খুঁত ধরেছেন সবসময়, সেই ছোট বউটাই নিজের রক্ত জল করে, এক কাপড়ে দাঁড়িয়ে ওনার প্রাণটা বাঁচিয়ে এনেছে। সেদিনের পর থেকে কমলা দেবীর মনের বরফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করল। ওনার চাউনিতে সুমনার প্রতি একটা গভীর অপরাধবোধ আর স্নেহ ফুটে উঠতে লাগল।

ঈর্ষার বিষাক্ত কুপরিকল্পনা

দিন পাঁচেক পর পরমা বাপের বাড়ি থেকে ফিরে এলো। কিন্তু পা রাখতেই সে বুঝল, এই কদিনে দত্ত বাড়ির হাওয়া সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন—সবাই ছোট বউ সুমনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমনকী স্বয়ং কমলা দেবীও বসার ঘরে বসে সবাইকে বলছেন, "সেদিন যদি সুমনা নিজের বুদ্ধিতে আমায় হাসপাতালে না নিয়ে যেত, তবে আজ আমি এই পৃথিবীতে থাকতাম না।"

এই কথাগুলো পরমার কানে তপ্ত সিসার মতো লাগছিল। সে লক্ষ্য করল, কমলা দেবী এখন সুমনা অফিস থেকে ফিরলে নিজে উঠে গিয়ে ওনার খোঁজ নেন, সুমনার আনা ফল বা মিষ্টি পরম আগ্রহে খান। পরমা বুঝতে পারল, এতদিন ধরে যে একচ্ছত্র সাম্রাজ্য আর গয়নার অধিকার সে নিজের ভাবত, সেখানে সুমনা কোনো তোষামোদ না করেই নিজের স্থান পাকা করে নিয়েছে।

তীব্র ঈর্ষা আর প্রতিহিংসায় জ্বলতে জ্বলতে পরমার রাতের ঘুম উড়ে গেল। সে ঠিক করল, যেভাবেই হোক, সুমনাকে শাশুড়ির চোখে এক ধাক্কায় নিচে নামাতেই হবে। প্রমাণ করতে হবে যে সুমনা আসলে ওনার কোনো যত্নই করে না, সবটাই লোকদেখানো। আর এই চিন্তা থেকেই ওনার মাথায় এল এক ভয়ঙ্কর, জঘন্য কুপরিকল্পনা।

সেদিন ছিল শনিবার, বিকেল বেলা। সুমনা রান্নাঘরে শাশুড়ির জন্য চা তৈরি করছিল। আর ওনার পছন্দের জর্দা পানটি প্রতিদিনের মতো আগে থেকেই সেজে একটা স্টিলের থালায় টেবিলের ওপর রাখা ছিল। রান্নাঘরে সুমনা যখন দুধ গরম করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগে পরমা বিড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে ড্রয়িং রুমে ঢুকল। আঁচলের খুঁট থেকে বের করল একটি কুচকুচে কালো, অত্যন্ত শক্ত ও ধারালো ছোট পাথরের টুকরো। সুমনার অলক্ষ্যে, সে খুব চতুরতার সাথে সেই পাথরের টুকরোটি পানের খিলির একদম মাঝখানে সুপুরির বদলে গুঁজে দিল। তারপর আবার অলক্ষ্যে সরে গেল।

একটু পরেই সুমনা অত্যন্ত ভক্তিভরে সেই পানের থালা আর চায়ের কাপ নিয়ে কমলা দেবীর ঘরে গেল। — "মা, এই নিন আপনার চা আর পান।" কমলা দেবী হাসিমুখে সুমনার হাত থেকে পানটা নিলেন। ওনার অভ্যাস ছিল চা খাওয়ার আগেই পানটা মুখে পুরে নেওয়া। তিনি অভ্যাসমতো পানটা গালে পুরে যেই না জোরে একটা চাপ দিলেন...

অমনি দাঁতের মধ্যে একটা তীব্র, শক্ত এবং ধারালো কিছুর আঘাত লাগল। বৃদ্ধ বয়সের দুর্বল দাঁত ও মাড়ি সেই আঘাত সহ্য করতে পারল বৈদেশিক না। — "আহ্! ও মা গো! মরে গেলাম রে!"

কমলা দেবী তীব্র ব্যথায় চিৎকার করে উঠলেন। ওনার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এলো, মাড়ি ফেটে রক্ত পড়তে শুরু করল। ওনার গোঙানি আর চিৎকার শুনে সুমনা চমকে উঠে চায়ের কাপটা টেবিল ফেলে দিয়ে ওনার কাছে ছুটে গেল— "কী হয়েছে মা? কী হলো আপনার?"

সুমনা ব্যতিব্যস্ত হয়ে কমলা দেবীর মুখ থেকে পানের ছিবড়েটা নিজের হাতে বের করে আনল। আর সেই ছিবড়েটা হাতের ওপর রাখতেই সুমনার চোখের মণি স্থির হয়ে গেল। পানের মাঝখান থেকে বেরিয়ে এসেছে একটা ধারালো, রক্তমাখা পাথরের টুকরো!

সুমনার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সে বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে নিজের হাতে সুপুরি কেটে পান সাজিয়েছে, সেখানে এই পাথর কীভাবে আসতে পারে, সে কিছুতেই মাথায় বুদ্ধি খাটিয়ে মেলাতে পারছিল না। ওদিকে ঘরের দরজার পর্দার আড়াল থেকে একজোড়া কুটিল চোখ এই দৃশ্য দেখে এক পৈশাচিক, তৃপ্তির হাসিতে মেতে উঠল। পরমা জানত, এবার সুমনার পতন অনিবার্য!

**পর্ব - ১**

**দ্বিতীয় পর্ব খুব শীঘ্রই আসছে...**

**তাড়াতাড়ি পড়তে চাইলে দ্রুত কমেন্ট করে জানান!**

সংগৃহীত