কোনো বউ খারাপ

গল্পের শিরোনাম: নিগৃহীত অতীত ও আজকের সত্য

আমার ছোট বোনের জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায় যা না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন। আমার বোন আজ নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত, মাসে প্রায় লাখ টাকা আয় করে। কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দেখলেই সে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে। সে চায় না তারা যেন কোনোদিন তাদের বাড়িতে আসুক বা থাকুক।

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "তোর স্বামী কি এসব জানে?" বোন বিষণ্ণ হাসি হেসে বলল, "হ্যাঁ, জানে। আর আমার মা-ও জানে আমি ওদের কতটা ঘৃণা করি। আমার স্বামী ভালো করেই জানে আমি ওদের হাতে কতটা অত্যাচারিত আর নিগৃহীত হয়েছি।"

পুরনো দিনের সেই বিভীষিকা

বোন তখন তার পুরনো দিনের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করল। সে আর তার ননদ সমবয়সী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কাজের মেয়ের মতো আচরণ করা হতো। ননদের হাতে পায়ে সাবান মেখে দেওয়া থেকে শুরু করে তার কাপড় ধুয়ে দেওয়া—সবই ছিল আমার বোনের দায়িত্ব। নিজের পছন্দের কোনো জিনিস থাকলে ননদ তা কেড়ে নিয়ে যেত। তখন আমার বোন আর তার স্বামী দুজনেই ছাত্র ছিল, অথচ বোনকে হেটে কলেজে যেতে হতো, আবার বাড়ি ফিরে সংসারের সব কাজ করতে হতো। ননদ রিকশায় যাতায়াত করলেও বোনকে তার সামনে খাবার এগিয়ে দিতে হতো। কোনো ছুটির দিনে ভুল করে সকাল ৮টা পর্যন্ত ঘুমালে শাশুড়ি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। এমনকি ফুটপাত থেকে কেনা ড্রেস বা ননদের পুরনো ড্রেস তাকে পরতে দেওয়া হতো। সেই সময় তার স্বামী কেবল বলত, "ধৈর্য ধরো"।

অসুস্থতার দিনে অমানবিক অবহেলা

একবার দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর বোন বিছানায় শুয়ে ছিল, পাশে বসে তার ননদ টিভি দেখছিল। সন্ধ্যা ৬টা বেজে গেলেও বোন ঘুম থেকে না ওঠায় শাশুড়ি তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। অথচ বোন তখন জ্বরে কাঁপছিল, কেউ ফিরেও দেখেনি তার কী হয়েছে।

আজ আমার বোন সুপ্রতিষ্ঠিত। আজ যারা একসময় তাকে কাজের মেয়ের মতো অবহেলা করত, তারা তার কাছে ভালোবাসা দেখাতে আসতে চায়। বোন আক্ষেপ করে বলে, "এখন আমি এই ভালোবাসা দিয়ে কী করব?"

"সত্যিই, কথাটি চিরন্তন—কোনো বউ খারাপ হয় না, পরিস্থিতির চাপে তাদের খারাপ বানানো হয়।"

সংগৃহীত