যেমন কর্ম তেমন ফল
শাশুড়ির ফাঁদে ছেলেই যখন কুপোকাত
রাতের খাবারের সময় ডালে ভালোমতো জোলাপ মিশিয়ে দিলো রাইসা। সাইমন ডাল খুব একটা পছন্দ করে না, খায়ও না। শামিমার জন্যই ডাল রান্না করা। সাইমন মায়ের হাত ধরে ধরে নিয়ে এসে চেয়ারে বসালো। অতঃপর এগিয়ে দিলো খাবার। রাইসা দেখেও দেখলো না। দু'টো আপেল, একটা প্লেট ও ছুরি নিয়ে নিজেও বসলো চেয়ারে। ব্যস্ত হলো নিজের কাজে। শামিমা বসলেন রাইসার মুখোমুখি। সাইমন টেবিলের মাঝামাঝি চেয়ারটায় বসেছে।
খাওয়া অর্ধেক শেষ হতেই পেয়ালার ডাল অর্ধেক প্লেটে ঢালতেই মিটিমিটি হাসলো রাইসা। মুখের মধ্যে আপেলের টুকরো ঢুকিয়ে আড়াল করলো নিজের হাসি। তিন লোকমা ভাত মুখে দিতে পারলো শামিমা। এরপরই ভয়ানক মোচড় দিতে শুরু করলো পেটের নাড়ি-ভুড়ি। সামলানোর অনেক চেষ্টা করলেন শামিমা। শেষ পর্যন্ত হলো না। পায়ে ব্যাথার নাটক ভুলে উঠে ছুট লাগালো বাথরুমে। শামিমার পায়ের গতি দেখে ভড়কে গেলো সাইমন। খাবার মুখে তুলতে নিয়েও হাত থেমে গেলো। হা করে চেয়ে রইলো সেদিকে। থতমত খেয়ে বলল, - "আরে! মা এভাবে ছুটলো কেন? আর পায়ের ব্যাথা.."
রাইসা প্রতিত্তোরে মিষ্টি হেসে বলল, - "তোমার মা পায়ের ব্যাথা কমানোর ব্যায়াম করছে। এটার নাম ছুটোছুটি ব্যায়াম।"
সাইমন চোখ গরম করে তাকালো। ধমকের সুরে বলল, - "তাই বলে খাওয়ার সময়?"
রাইসা 'চ' সূচক শব্দ করে বলল, - "ব্যায়ামের একটা সময় আছে না? খেতে খেতে টাইম হয়েছে, তাই দৌড় দিয়েছে। তোমার মন চাইলে তুমিও দাও দৌড়।"
সাইমন কটমট করে বলল, - "ফাজলামি বন্ধ করো। মা ওয়াশরুমে গিয়েছে।" বলতে বলতে সাইমন নিজের প্লেটেও ডাল ঢাললো। অমনি চোখ বড়বড় করে তাকালো রাইসা। দ্রুতবেগে প্রশ্ন করলো, - "একি? তুমি ডাল নিচ্ছো আজ?"
সাইমন বিরক্তভাব প্রকাশ করে বলল, - "তো কি হয়েছে? তরকারি কম হয়েছে তাই ডাল নিয়েছি। এটা নিয়ে এভাবে জিজ্ঞেস করার কি হলো?"
রাইসা ঠোঁট উলটে বলল, - "কি আর হবে? মা খেয়েছে, তুমিও খাও। ভালো করে খাও।" অতঃপর কন্ঠস্বর নামিয়ে বিড়বিড়িয়ে বলল, - "মা ব্যায়াম করছে, এবার ছেলেও ব্যায়াম করবে। রুম টু ওয়াশরুম, ওয়াশরুম টু রুম। আর আমি বসে বসে তামাশা দেখবো। লা লা লা...!"
সাইমন ডাল দিয়ে ভাত মাখাতে মাখাতে বলল, - "কিন্তু যাওয়ার সময় মায়ের পায়ে একটু ব্যাথাও লাগে নি? অদ্ভুত ব্যাপার তো!"
-"আমাকে কি বলছো? নিজেই দেখো। মায়ের সব কথাই তো চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করো। সঠিক-ভুলের বালাই নেই।"
-"বেশি তর্ক করো না রাইসা। ভালো-মন্দ বুঝ আমার আছে।"
রাইসা তাচ্ছিল্যের নজরে তাকালো। স্মিত হেসে বলল, - "ভালো-মন্দ বুঝ আর তোমার? ওইদিন যে তোমার মা বলল, আমি পরপুরুষ নিয়ে ঘুরে বেড়াই, কই তখন তো তুমি কোনো প্রতিবাদই করলে না। এই বুঝ তোমার? আমি তো বলবো, এমন স্বামী আমার শত্রুর কপালেও না জুটুক।"
এরপরই উঠে গেলো টেবিল ছেড়ে। বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে প্লেটটা ধুয়ে বেরিয়ে এলো। ততক্ষণে সাইমন কয়েক লোকমা ভাত গিলে ফেলেছে। এবং ডালে মেশানো জোলাপ প্রতিক্রিয়াও দেখাতে শুরু করেছে। ফলাফল, পুরো ভাতটা সেও শেষ করতে পারলো না। মাঝপথেই ভাত ফেলে ছুটতে হলো তাকেও। রাইসা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সাইমনকে ওভাবে যেতে দেখে হেসে ফেলল স্বশব্দে। হাসতে হাসতে বলল, - "মায়ের মুখোশ খুলতে চেয়েছিলাম। এখন দেখি মা-ছেলে দুটোর অবস্থাই টাইট হয়ে গেছে।"
সংগৃহীত