বন্ধুর বিবাহবার্ষিকী
"এত হিসাব করে কোন সম্পর্ক চলে? আমার তো ইচ্ছা আরও বেশি করে বাঁধবো তোমাদের..." 🤝❤️
বন্ধুর বিবাহবার্ষিকী। রজত সস্ত্রীক নিমন্ত্রিত। সন্ধে সাতটার মধ্যে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। এখন সাতটা পঁচিশ। অথচ এখনও তৈরী হয়ে উঠতে পারেনি মল্লিকা। রজত তাড়া দিচ্ছে। কিন্তু মল্লিকার কোন হেলদোল নেই। ভেতর থেকে মাঝে মাঝে শুধু বলে চলেছে, এই তো হয়ে গেছে। এই করে আরও মিনিট পাঁচেক পেরোনোর পর সুসজ্জিতা মল্লিকা বেরিয়ে এল। কায়দা করে শাড়ির আঁচলটা ধরে বলল, শাড়িটা পরে কেমন লাগছে আমায় বলতো?
এতটা দেরি করার জন্যে মনে মনে রেগেছিল রজত। তবু বেরোনোর সময় আর বকাবকি করতে ইচ্ছে করল না। আলতো হেসে বলল— বেশ ভাল লাগছে।
মুচকি হাসলো মল্লিকা— শাড়িটা কার জানো?
জুতোর ফিতে বাঁধতে বাঁধতে রজত বলল— কার আবার? তোমারই। নিশ্চয় বাবা কোন সময় দিয়েছিলেন?
— মোটেই না। এমন ব্ল্যাক আর সী-গ্ৰীন কম্বিনেশনের কোন শাড়ি আমার আছে নাকি? এটা দিপিকাদির শাড়ি। শাড়িটার আমি একদিন প্রশংসা করেছিলাম। তাই আমি তোমার বন্ধুর ম্যারেজ অ্যানিভার্সারিতে যাব শুনে জোর করে দিয়ে গেল বিকেলে। দিপিকাদির তো চেহারা আমার থেকে ভাল। তাই ব্লাউজটায় একটু সেলাই দিতে হল। এই জন্যই একটু দেরি হয়ে গেল।
— একটু নয়। অনেকটা দেরি হয়েছে। এবার চলো।
পায়ে চটিটা গলাতে গলাতে মল্লিকা বলল— জানো, দিপিকাদির মনটা খুব ভাল। আমি ভাগ্য করে এমন প্রতিবেশী পেয়েছি।
— তা ঠিক। তুমি একজন ভাল বন্ধু পেয়েছো।
— তা যা বলেছো।
ট্যাক্সিতে উঠেও দিপিকাদির প্রশংসাই করে চলেছে মল্লিকা। ইচ্ছা না থাকলেও শুনতে হচ্ছে রজতকে। আসলেও ভদ্রমহিলা মল্লিকার সঙ্গে খুবই ভাল ব্যবহার করেন। পাশাপাশি বাড়ি। শুক্তো বা কচূরশাকের মত পদ রেঁধে দিয়ে যান মাঝে মাঝে। মল্লিকাও শুধু নিয়ে থাকে না। কোনদিন নবরত্ন, কোনদিন বা দই ফুলকপি করে দিয়ে আসে। এতদিন এইসবই চলছিল। এখন আবার শাড়ি পরতে দেওয়া শুরু হল। যাই হোক। এ নিয়ে মাথাব্যাথা না করাই ভাল রজতের। বরং একটা কথা ভেবে ভাল লাগছে। রোজ দিপিকাবৌদির সঙ্গে গল্প করে মল্লিকার কিছুটা সময় অন্তত কেটে যায়। তা না হলে হয়তো নিঃসঙ্গ লাগতো ওর।
* * *
দেখতে দেখতে প্রায় দু'বছর হতে চলল মল্লিকার বিয়ে হয়েছে। হনিমুনে দার্জিলিং যাওয়ার পর আর কোথাও তেমন বেড়াতে যাওয়া হয়নি ওর। হঠাৎ করেই প্রস্তাবটা রাখলেন দিপিকাদি। দুটো ফ্যামিলি একসঙ্গে পুরী যাওয়ার প্রোগ্ৰাম হল। সজলদারও খুব আগ্ৰহ। রজতও ভেবে দেখলো এখনও কোন বাচ্ছা না নেওয়ায় ওরা ঝাড়া হাত পা。 এখন ঘুরে এলে মন্দ হবে না। তাছাড়া শুধু দুজনে যাওয়ার থেকে একসাথে দুটো ফ্যামিলি গেলে ভালই লাগবে। সবাইকার আগ্ৰহে তাড়াতাড়ি রিজার্ভেশন করা হয়ে গেল। দেখতে দেখতে দেড়মাস পেরিয়ে গেল। লাগেজ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ল ওরা। দিপিকা ও সজল বসুর দুই ছেলে, রনি আর বনি। দুজনের সঙ্গে বেশ ভাব মল্লিকার। বেড়াতে যাওয়ার নাম শুনেই ওরা বলেছে, আমরা মল্লিকা আন্টির সঙ্গে ঘুরবো।
পুরীতে এসে মল্লিকাকে ছাড়তে চায় না রনি, বনি। শেষে দিপিকা বসু ছেলেদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে একটা শর্ত করলেন। বললেন, সারাদিন ওদের দৌরাত্ম্য সহ্য করে আমিও ক্লান্ত। তাই সকালের দিকে মল্লিকার সঙ্গে ঘুরবে রনি, বনি আর সজল। আমি থাকবো রজতদার সঙ্গে। তাতে আমার একঘেয়েমি কিছুটা কাটবে। তবে সন্ধের সময় মল্লিকা ঘুরবে রজতদার সঙ্গে। আর আমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরবো।
মায়ের সারাদিন বকুনি শুনতে ভাল লাগে না রনি, বনির। তাই সকালটা আন্টির সঙ্গে ঘুরবে জেনে খুব খুশি হল ওরা। এইভাবেই কেটে গেল তিনটে দিন। শুধু জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার সময় সবাই একসঙ্গে গেল। চতুর্থ দিন ফেরার পালা। এই তিনটে দিনে সজলদার সঙ্গে মল্লিকার সম্পর্ক অনেকটা সহজ হয়েছে। দিপিকাদি তো আগে থেকেই কথা বলতেন রজতের সঙ্গে। এখন অবশ্য আরও সহজ হয়েছে রজত নিজে। তিনটে দিন কোথা দিয়ে যেন কেটে গেল। ব্যাগ গুছোতে গুছোতে মল্লিকা বলল— এখন মনে হচ্ছে আরও একটা দিন বেশি থাকার প্রোগ্রাম করলে মন্দ হত না, বল?
রজতও একই কথা বলল— সত্যিই এখন আমারও তাই মনে হচ্ছে। এত ভাল লাগবে তা ভাবিনি আসার আগে।
পুরী থেকে ফেরার পর একটা জিনিস লক্ষ্য করছে মল্লিকা। আগে ও যখন দিপিকাদির প্রশংসা করত, তখন চুপচাপই থাকতো রজত। ইদানিং কিন্তু রজত নিজের থেকেই দিপিকাদির প্রশংসা করে। গতকাল রসগোল্লার পায়েস করে দিয়ে গিয়েছিল দিপিকাদি। রজত খেয়ে একটু বেশিই বাহবা দিল। বলল— দিপিকাবৌদির বেশ গুন আছে। যেমন মিশুকে, তেমনি ভাল রান্নাবান্নাও করতে পারে।
এখন মাঝে মাঝেই রজত দিপিকা বৌদির প্রশংসা করে। রজতের মুখে দিপিকাদির এত প্রশংসা শুনতে ভাল লাগছে না মল্লিকার। এই নিয়ে মনকে বুঝিয়েছে। কিন্তু যতই ব্যাপারটা হালকাভাবে নেবে ভাবছে, কিছুতেই নিতে পারছে না। মনে মনে কিছুটা জেলাস ফিল করছে। মনের খুঁতখুঁতানিটা বাড়লো দিপিকাদির কথায়। বিকেল বেলায় এসে বললেন— কি গো রসগোল্লার পায়েস ভাল লেগেছে তোমার?
মল্লিকা বলল— খুব সুন্দর হয়েছে।
— রজতদা খেয়ে কি বলল?
মনের ভাব গোপন করে মল্লিকা বলল— ওরও ভাল লেগেছে। তবে তুমি রোজ রোজ এত কিছু দিও না। আমি তেমন কিছু করে দিতে পারি না। তাই খারাপ লাগে।
দিপিকাদি হাসলেন— এসব কি বলছো তুমি? এত হিসাব করে কোন সম্পর্ক চলে? আমার তো ইচ্ছা আরও বেশি করে বাঁধবো তোমাদের। এবার ডিসেম্বরে সবাই মিলে দীঘা যাব।
বেড়াতে যেতে ভালই লাগে মল্লিকার। একসঙ্গে পুরী গিয়ে খুব আনন্দ হয়েছিল। তবে ইদানিং কেমন যেন মনটা খুঁতখুঁত করে দিপিকাদির এই অতি মিশুকে স্বভাবের জন্য। রজতও এখন খুব সহজভাবে দিপিকাদির সঙ্গে গল্প-টল্প করে। দিপিকাদির আগ্ৰহটা যেন একটু বেশিই। ধুৎ, এসব কি ভাবছে মল্লিকা? নিজের মনকে শাসন করল ও। তবু খিচখিচিনিটা মনের মধ্যে রয়েই গেল।
* * *
মল্লিকারা দুই বোন। দিদি, মনিকার বিয়ে হয়ে গেছে ছ'সাত বছর আগে। থাকে দূর্গাপুরে। ফোনে যোগাযোগ থাকে। তবে আসা যাওয়া খুবই কম। বছরে একবার একে অন্যের বাড়ি যায়। শ্বশুর-শাশুড়ি, দেওর, ছেলে নিয়ে ভরা সংসার দিদির। আসতে সময় পায় না। মল্লিকা যায় না বলে অভিযোগ করে। তবে ওরও যাওয়া হয়ে ওঠে না রজতের ছুটির অভাবে। ডিসেম্বরে একবার করে যায়। পুজোর সময় আসে দিদি। বাবার শরীর ভাল নয়। সেই কারনে মা-বাবা তো তেমন আসতেই পারেন না। মল্লিকা নিজে গিয়ে দেখা করে আসে মাঝে সাঝে। রজতের মা, বাবা কেউই বেঁচে নেই। এক দাদা। সপরিবারে থাকে দিল্লিতে। সেই বিয়েতে এসেছিল। এই দু'বছরে আর আসেনি। বিশেষ আত্মীরস্বজন নেই মল্লিকারও। তাই বাড়িতে আর কেউ আসে না বললেই চলে।
আজ সকালে বিছানা ছেড়ে উঠেই থলি হাতে বাজার চলে গেল রজত। যাওয়ার সময় বলে গেল, এসে চা খাবো। মল্লিকা তো অবাক। এত সকালে বাজার যায় না কোনদিনই রজত। আজ হল কি?
ঘন্টাখানেক পর ফিরলো। বাড়ি ঢুকে বলল— হঠাৎ করেই প্রোগ্রামটা হয়ে গেল। আমার চারজন অতিথি আসবে। তুমি জমিয়ে রান্না করবে আজ। ভাল ইলিশ পেয়েছি। আজকের মেনু হবে, সরু চালের ভাত, বেগুন ভাজা, খাশির মাংস, ইলিশ ভাঁপা আর খেজুর কিসমিস দিয়ে টমেটোর চাটনি। এমন রাঁধবে যে খেয়ে যেন আমার গেস্টদের তাক লেগে যায়।
— সবই বুঝলাম। কিন্তু গেস্টরা কোথা থেকে আসবে, সেটাই তো জানলাম না।
— ওটা এখন বলব না। এলে দেখতে পাবে। প্লিজ জানার জন্যে আর জোর করো না আমাকে।
মল্লিকা বলল— বেশ, তুমি যখন সারপ্রাইজ দিতে চাইছো, তখন আর জানতে চাইবো না।
— তুমি চা-টা করো এবার। আমি আজ অফিস যাবো না। চা খেয়ে তোমাকে কিছুটা হেল্প করতে পারি।
মল্লিকা হাসল— অত উপকার করতে হবে না। পদ্মদি মাছ, মাংস ধুয়ে, পেঁয়াজ-রশুন কেটে দেবে। আমি রান্না করে নিতে পারবো দিব্যি।
বেলা দশটা নাগাদ আবার বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেল রজত। বলল, আমি আধঘন্টার মধ্যে ফিরে আসছি। মল্লিকা রান্নাঘর থেকে হেঁকে বলল— দেরি করো না। তোমার গেস্টরা আসার আগেই যেন চলে আসবে।
রজত বলল— ওরা হয়তো এগারোটা নাগাদ আসবে। আমি তার অনেক আগেই চলে আসবো।
সত্যিই আধঘন্টা পরই ফিরে এলো রজত। মল্লিকা রান্নায় ব্যস্ত। ঘর মুছতে মুছতে উঠে দরজা খুলে দিল পদ্ম। রজত দুটো শপিং ব্যাগ নিয়ে ঢুকে পড়তে যাচ্ছিল ঘরে। ঠিক সেই সময় রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল মল্লিকা। রজতের হাতে পোশাকের প্যাকেট দেখে অবাক হল。
— কি ব্যাপার গো? তোমার গেস্টদের জন্যে গিফ্ট নাকি? গেস্টরা মনে হচ্ছে খুবই স্পেশাল?
রজত হাসল— তা বলতে পারো। অন্তত আজকের জন্য ভেরি স্পেশাল।
মল্লিকা আর কথা না বাড়িয়ে রান্নাঘরে ঢুকে গেল।
বেলা এগারোটা নাগাদ কলিংবেল বেজে উঠতেই দরজা খুলতে ছুটে গেল রজত। কিন্তু এ কি দেখছে মল্লিকা। হাতে দুটো শপিং ব্যাগ আর মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে বাড়িতে ঢুকলো দিপিকাদি, সজলদা, رনি আর বনি। দিপিকাদি রান্নাঘরে ঢুকে মল্লিকার হাত ধরে টান দিল। রান্নাটা এখন রাখো। আগে আমার একটা সমস্যার সমাধান করো।
মল্লিকা বলল— কি সমস্যা দিপিকাদি?
— আজ রাখি পূর্ণিমা সেটা তো জানো?
মল্লিকা মাথা নাড়ল— আসলে আমার কোন ভাই না থাকার জন্যে দিনটা অত মনে থাকে না।
— সে কি রজতদা বলেনি তোমাকে, কেন আমাদের নেমন্তন্ন করেছে আজ?
মল্লিকা আবার মাথা নাড়ল।
— এবার থেকে আর দিনটা ভুলবে না তুমি। যাই হোক, এবার আমার সমস্যাটা বলি। রজতদা আমাকে বোন করবে বলে ভেবেছে। এদিকে বার্থ সার্টিফিকেট অনুযায়ী আমি রজতদার থেকে দু'মাসের বড়। তাহলে আমি কি করে বোন হই? আমি দিদি হবো। আর আজ থেকে ওকে নাম ধরে ডাকবো বলে ভেবেছি। কি ঠিক ভাবিনি?
মুহূর্তে চরম প্রশান্তিতে ভরে গেল মল্লিকার মন। এত বড় একটা চমক যে ওর জন্যে অপেক্ষা করছিল, তা ও কল্পনাও করেনি। ও হাসতে হাসতে বলল— ওটা তোমাদের ভাইবোনের ব্যাপার। তবে নিয়ম মেনে ধরলে তুমি দিদিই হবে।
দিপিকাদি লাফিয়ে উঠল— এই তো আমার সাপোর্টার পেয়ে গেছি। আরে তোমার তো অসুবিধা নেই। তুমি রাখি পরালেও, তোমার সজলদা দাদাই থাকবে। তবে তোমাকে বোন হিসেবে পাবে বলে খুব এক্সাইটেড তোমার সজলদা।
মল্লিকা ছুটে এল রজতের কাছে। ফিসফিস করে বলল— আমার জন্যে রাখি এনেছো তুমি?
রজত মুখ টিপে হাসল— হ্যাঁ ম্যাডাম। রাখি, গিফ্ট সব এনেছি। আমি দিপিকাদির জন্যে শাড়ি এনেছি। আর তুমি সজলদাকে দেবে বলে পাজামা-পাঞ্জাবী।
দিপিকাদি বললেন— তুমি দুটো প্লেট দাও আমাকে। মিষ্টিগুলো সাজিয়ে ফেলি। আগে রাখি পরানো হয়ে যাক। তারপর নাহয় দুজনে মিলে রান্না সেরে ফেলবো।
মল্লিকা হাসতে হাসতে বলল— রান্না যা বাকি আছে আমিই সেরে ফেলবো। সেখানে আমার ননদিনীকে আর হাত দিতে হবে না।
দিপিকা বসু হো হো করে হেসে উঠলো।
সজল বসুর হাতে রাখি পরিয়ে মল্লিকা বলল— আজ থেকে আমি আর আপনাকে সজলদা আর আপনি বলব না। দাদাভাই বলব আর তুমি বলে ডাকবো। কেমন?
sজল বললেন— এতে আমি ভীষণ খুশি হবো।
দিপিকা বললেন— আমি তো ঠিক করেই নিয়েছি যে এবার থেকে রজতকে আমি নাম ধরেই ডাকবো। আর ও আমাকে দিদিভাই বলবে। দিদিভাই ডাকটা শুনতে আমার ভীষণ ভাললাগে।
রজত বলল— ঠিক আছে। তাই হবে। আমারও তো কোন বোন বা দিদি নেই। আজ থেকে দিদিভাই পেলাম।
রনি, বনির উপস্থিতিতে হৈ চৈ করে কেটে গেল সারাটা দিন। সন্ধের সময় বাড়ি গেলেন দিপিকাদিরা। যাওয়ার সময় দিপিকাদি বললেন— এরপর ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানটা হবে আমাদের বাড়িতে। আর পরের রাখির দিন আবার তোমাদের বাড়ি। এইভাবেই চলবে প্রতিবছর।
রজত বলল— সেটা বেশ ভাল হবে দিদিভাই।
সারাদিনের হৈ-হুল্লোড়ের পর ওরা চলে যেতে বাড়িটা বেশ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। রজত এমন একটা দিন উপহার দেওয়ায় ভীষণ খুশি মল্লিকা। ওর চোখে মুখে উচ্ছ্বাস উপচে পড়ছে।
রজত মল্লিকার হাতটা টেনে নিয়ে বলল— কেমন চমকটা দিলাম আজ?
মল্লিকা আবেগতাড়িত গলায় বলল— সত্যিই আজ তুমি যে সারপ্রাইজ গিফ্টটা দিলে আমাকে, সেটা আমার জীবনের সেরা সারপ্রাইজ গিফ্ট। আমি এর জন্য তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।
রজত বুকের মধ্যে মল্লিকাকে টেনে নিয়ে বলল— তাহলে আমারও তো গিফ্ট চাই এখুনি একটা।
মিষ্টি হেসে রজতের গালে ঠোঁট ছোঁয়ালো মল্লিকা।
সংগৃহীত