ভালোবাসার দুর্বলতা

"মানুষের কাছে একটু আদর, যত্ন, আর ভালোবাসা পাওয়ার তৃষ্ণাই হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কত ভুল দরজায় কড়া নেড়েছি একটুখানি ভালোবাসার আশায়... আর ঠিক সেই দুর্বল জায়গাতেই পেয়েছি সবচেয়ে গভীর ক্ষত।" 💔🥀


রাতের নিঃশব্দতায় জানালার পাশে বসেছিল অনন্যা। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। কাঁচের গায়ে জমে থাকা এক-একটি জলের ফোঁটা যেন তার মনের জমানো অনুভূতির মতোই গড়িয়ে পড়ছে।

হঠাৎ মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগের একটা বিকেল। কফি শপের এক কোণে বসে অর্ক তাকে হঠাৎ প্রশ্ন করেছিল, "What is your biggest weakness in life?" (তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোনটা?)

তখন অনন্যা হেসে ফেলেছিল। অর্কের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলেছিল—

"আদর, যত্ন, গুরুত্ব, আর নিঃশর্ত ভালোবাসা। মানুষের কাছ থেকে একটুখানি ভালোবাসা পাওয়ার এই অদম্য লোভটাই বোধহয় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কত ভুল দরজায় কড়া নেড়েছি, কত ভুল মানুষের কাছে মিছিমিছি মাথা নত করেছি শুধুমাত্র একটুখানি স্নেহের মুখাপেক্ষী হয়ে..."

অনন্যা কখনো কোনো বৈষয়িক ধন-সম্পদ চায়নি। ছোটবেলা থেকেই সে অভাব বোধ করেছে কেবল একটুখানি গুরুত্ব আর ভালোবাসার। কিন্তু আফসোস, জীবনের এই সহজ চাওয়াটাই তাকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছে।

যাকেই সে আপন ভেবেছে, যার দিকেই সে একবুক আশা নিয়ে হাত বাড়িয়েছে, তারাই তার এই আবেগ আর নরম মনকে দুর্বলতা ভেবে ব্যবহার করেছে। সে ভেবেছিল অর্ক অন্তত তাকে বুঝবে, তার এই শূন্যতাটুকু ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অর্কও বদলে গেল। অনন্যার সেই আবেগকেই সে ‘আতিশয্য’ বা ‘অতিরিক্ত নাটক’ বলে হেয় করতে শুরু করল।

শেষে দেখা গেল, যে জায়গাটাতে অনন্যা সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর ছিল—সেই ভালোবাসার জায়গাটাতেই সে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেল। কাঁচ ভাঙার মতো শব্দ হয় না মনের ভেতরের মানুষটা ভেঙে গেলে, কিন্তু রক্তক্ষরণ হয় আজীবন।

আজ অর্ক আর তার জীবনে নেই। ভুল মানুষের দরজা ছেড়ে অনন্যা এখন নিজের একাকীত্বকে ভালোবাসতে শিখেছে। কিন্তু মাঝরাতে যখন চারপাশ শান্ত হয়ে আসে, বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে পড়ে। মনের অতলে লুকিয়ে থাকা সেই প্রশ্নটা আজও সে কাকে যেন শুধায়

"সেতু, শুনছো...?"
ভালোবাসার আশা কি সত্যিই এতটা অপরাধের ছিল?

সংগৃহীত