বাপ-বেটার মিষ্টি বিকেলের মুহূর্ত

"পকেটে টান থাকলেও ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি থাকে না! বাবা আর ছেলের এই এক টুকরো দুষ্টু-মিষ্টি মুহূর্তই জীবনের আসল আনন্দ।"* 💖

বাপ-বেটার ভালোবাসা আর মিষ্টি খুনসুটির এক অপূর্ব গল্প...

#গল্প #বাপ_বেটার_ভালোবাসা #ভালোবাসা #পারিবারিক_গল্প #হৃদয়স্পর্শী


বিকেল গড়িয়ে যখন মিষ্টি রোদটা একটু ফিকে হয়ে এসেছে, মারওয়ান তার ছোট ছেলে ফায়াজকে (নাহওয়ান) নিয়ে হাঁটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলো।

একটু দূর হেঁটে যেতেই ফায়াজ তার বাবার হাতটা চেপে ধরে তোতলা গলায় আব্দার করে উঠলো—

"বাবা, তক্কেট কাবো।" (বাবা, চকোলেট খাবো।)

আজ মারওয়ানের পকেটে টান। মাসের শেষ, তাই হাতে টাকার বেশ অভাব। ইচ্ছে থাকলেও ছেলেকে আজ অনেক কিছু কিনে দিতে পারছে না সে। মন খারাপ হলেও মুখে হাসি ফুটিয়ে একটা ছোট চকোলেট কিনে দিলো ফায়াজের হাতে। তারপর ভালোবেসে বলল,

— *"ফায়াজ, চল আজকে দুই বাপ-বেটা পার্কে যাবো।"*

ছোট্ট ফায়াজ চকোলেটের প্যাকেট ছিঁড়তে ছিঁড়তে মাথা নাড়ালো। চকোলেট খেতে খেতে সে বাবার একটা আঙুল ধরে ছোট ছোট পায়ে হেঁটে বললো—

"তলো যাই।" (চলো যাই।)

মারওয়ান আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। পরম মমতায় ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে তার ফুলকো গালে একটা আদর মাখানো চুমু খেয়ে ঠাট্টা করে বললো—

— *"তোকে খেয়ে ফেলি ফায়াজ?"*

ফায়াজ গাল থেকে বাবার মুখটা সরিয়ে দিয়ে গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে বললো, "না!"

মারওয়ান আবার ওর অন্য গালে চুমু খেয়ে মিটিমিটি হেসে বললো—

— *"একটু খাই?"*

এবার ফায়াজ তার চকোলেট মাখা ছোট্ট হাত দুটো দিয়ে বাবার মুখে হাত বুলিয়ে দিলো। তোতলা কণ্ঠে স্পষ্ট করে বললো—

"ইন না।" (উঁহু না।)

মারওয়ান কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে চিৎকার করে উঠলো,

— *"আমার মুখে চকোলেট মাখলি কেন? তোকে তো আজকে খেয়েই ফেলবো!"*

কথাটি বলেই মারওয়ান ফায়াজের গোলগোল তুলতুলে গালে হালকা করে আলতো কামড় বসিয়ে দিলো।

হঠাৎ করে এমন কামড় খেয়ে বাচ্চাটা কেঁদে উঠলো! বাবার কোল থেকে নামার জন্য পা ছুড়ে ধস্তাধস্তি শুরু করে দিলো। মারওয়ান ছেলের এই কাণ্ড দেখে হো হো করে হেসে উঠলো। ছেলেকে শান্ত করার জন্য জলদি জিজ্ঞেস করলো—

— *"চিপস খাবে যেন কে?"*

চিপসের কথা শুনতেই ফায়াজ এক নিমেষে কান্না থামিয়ে চোখ মুছে সোজা হয়ে বসে বলল—

"আমি!"

মারওয়ান আবার জোরে হেসে উঠে ছেলেকে কোলের থেকে তুলে নিজের কাঁধে চড়িয়ে নিলো। কাঁধে চড়ে ফায়াজের কান্না কোথায় যে মিলিয়ে গেল! বাবার হাসির সাথে তাল মিলিয়ে সে-ও ফিসফিস করে মিষ্টি করে হাসতে লাগলো।

পথচলতি মানুষজন থমকে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তাকিয়ে রইলো কাঁধে চড়া ছেলে আর বাবার এই দূরন্ত আর ভালোবাসায় ভরা মুহূর্তটির দিকে। পকেটে টাকা কম থাকলেও আজ তাদের আনন্দের কোনো সীমা নেই!


সংগৃহীত