থিয়েটারের আলো-আঁধারি থেকে ক্যামেরার ফ্রেম
কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্ত্তী
সাক্ষাৎকারে: রিক্তা বিশ্বাস
রঙ্গমঞ্চের টান আর মেগা সিরিয়ালের বাস্তবতার মাঝে ব্যালেন্স করে এগিয়ে চলার নামই জীবন--- আজ আমরা জানবো অভিনেতা কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্ত্তী –এর থিয়েটারের আলো-আঁধারি থেকে ক্যামেরার সামনে আসার জার্নি, সঙ্গে অপরাজিতা ম্যাগাজিনের প্রতিনিধি রিক্তা বিশ্বাস।
প্রশ্নঃ আপনার জন্ম ও ছোট বেলা কোথায় কেটেছে ?
উত্তরঃ নদীয়া জেলা-তে বাড়ি আমার, ওখানেই সব-টা কেটেছে আমার।
• অবিশ্বাসের দেয়াল বনাম অটুট জেদ— রুটি-রুজির জন্য চাকরি করলেও মন পড়েছিল মঞ্চেইঃ
প্রশ্নঃ হটাত করে অভিনয় জগতে কেন ?
উত্তরঃ আমার অভিনয়ের হাতেখড়ি নদীয়ার সেই থিয়েটার গ্রুপটা থেকে। সেখানেই প্রথম চরিত্র নিয়ে ভাবা, আলো-আঁধারির মঞ্চটাকে চেনা এবং আস্তে আস্তে অভিনয়ের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা তৈরি হওয়া। তারপর সময়ের সাথে সাথে এই জগতটাকে আমি এতটাই ভালোবেসে ফেললাম যে আজ অভিনয় ছাড়া আমি আর অন্য কিচ্ছু বুঝি না— এটাই আমার ধ্যান, জ্ঞান আর অস্তিত্ব। তবে এই ভালোবাসার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। এমন অনেক বছর গেছে যখন আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না। দিনের পর দিন ইন্ডাস্ট্রির মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কাজের কথা বলেছি, কিন্তু তাও কোনো সুযোগ মেলেনি। আসলে তখন অনেকেই আমার ওপর ঠিক ভরসা করে উঠতে পারছিলেন না যে আমি আদেও অভিনয়টা ঠিকঠাক করতে পারব কি না। চারিদিকের এই অবিশ্বাস আর অবহেলা সত্ত্বে ও আমি কোনোদিন হাল ছাড়িনি। একটা সময় নিজের প্রতিদিনের খরচ আর ফাইনান্স ম্যানেজ করার জন্য, অর্থাৎ স্রেফ বাধ্য হয়ে আমাকে একটা চাকরিও করতে হয়েছিল। কিন্তু চাকরি করলেও আমার মনটা সবসময় পড়ে থাকত ওই শুটিং ফ্লোর আর নাটকের মঞ্চেই। কারণ হাজারো বাস্তবতার চাপেও আমি জানতাম, আমি শুধু এই অভিনয় জগতটাকেই মনে-প্রাণে ভালোবাসি আর একে ছেঁড়ে আমি কোথাও যাব না। সেই জেদ আর ভালোবাসাই আমাকে আজ এই জায়গায় টিকিয়ে রেখেছে।
• থিয়েটারের-টানে কোলকাতা আগমন: এক অভিনয় জীবনের রূপরেখা
প্রশ্নঃ নদীয়া থেকে কলকাতা-তে আসার কারন কি শুধুই অভিনয় ?
উত্তরঃ হ্যাঁ, আমার কলকাতায় আসার মূল কারণটাই ছিল অভিনয়। আমাদের নদীয়াতে একটা নিজস্ব থিয়েটার গ্রুপ ছিল, আর তাছাড়া আমার বাবাও থিয়েটারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই, বাবার হাত ধরে খুব ছোটবেলা থেকেই আমার অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং এই যাত্রাটার শুরু হয়। তবে ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে আমার মনে হতে শুরু করে যে, শুধু স্থানীয় স্তরে অভিনয় করে জীবনের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। আমার ভেতরের শিল্পীসত্তা কলকাতার মূলধারার থিয়েটার জগৎটাকে দেখার এবং সেখানে কাজ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। মূলত সেই থিয়েটারের টানেই আমার কলকাতায় পা রাখা। কলকাতায় আসার পর একদম শুরুতে বড় কোনো নাটকের দলে সুযোগ পাওয়াটা সহজ ছিল না। তাই আমার কলকাতার জীবনের প্রথম অধ্যায়টা শুরু হয় বাঘাযতীনের 'মৌচাক' নামক একটি জায়গায়, যেখানে আমি একটি ছৌ-নাচের গ্রুপে ভর্তি হই। সেখান থেকেই শুরু হয় আমার কলকাতার আসল লড়াই এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন। এরপর ধীরে ধীরে নিজের চেষ্টা, পরিশ্রম আর নিষ্ঠার মাধ্যমে কলকাতার মূল থিয়েটার জগতে আমার প্রবেশ ঘটে।
• থিয়েটারের মঞ্চ থেকে রুপোলি পর্দা: জীবনযুদ্ধের এক নতুন গল্প
বাস্তবের মুখোমুখি এক শিল্পী— থিয়েটারের
ভালোবাসা বনাম জীবনের দায়বদ্ধতাঃ
প্রশ্নঃ থিয়েটার-এর মঞ্চ থেকে বিনোদন জগতের ক্যামেরার সামনে আসার জার্নি টা কেমন ছিল ?
উত্তরঃ ২০১০ সাল পর্যন্ত আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি যে থিয়েটারের গণ্ডি পেরিয়ে কখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব। আমার লক্ষ্য ছিল স্থির— আমি শুধু মঞ্চেই অভিনয় করে যাব। কিন্তু একটা সময়ের পর জীবনের কঠিন বাস্তব আর খামখেয়ালি পরিস্থিতি আমাকে এক অন্য সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাল। বুঝলাম, জীবন চালাতে গেলে অর্থের প্রয়োজনটা কতখানি। যখন কাঁধের ওপর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ল, তখন স্পষ্ট বুঝতে পারলাম যে শুধু থিয়েটার করে এই আর্থিক চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। জীবনে তখন বড় একটা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতেই হলো। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই— অভিনয় ছাড়া তো আমি আর অন্য কোনো কাজ শিখিনি বা জানি না! তাই ভাবলাম, সিনেমার জন্য চেষ্টা করে দেখলে কেমন হয় ? অনেকের মুখেই শুনেছিলাম যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেতে গেলে বিভিন্ন জায়গায় ছবি জমা দিতে হয়। সেই কথা মেনেই আমি কলকাতার নানা স্টুডিও আর প্রোডাকশন হাউজে ঘুরে ঘুরে নিজের ছবি দেওয়া শুরু করলাম। ছবি দেওয়ার পর প্রায় ছয় মাস কেটে গেল, কোনো খবর নেই। সত্যি বলতে, আমি আশা ছেড়ে দিয়ে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম যে কোথাও ছবি জমা দিয়েছিলাম (একটু হেসে)। কিন্তু ঠিক তখনই একদিন আচমকা একটা ফোন এলো। সুপারস্টার জিৎ-এর ‘বস’ (Boss) সিনেমাটির জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। ওনারা জানালেন যে সিনেমাটিতে একদিনের একটি ছোট চরিত্র আছে, আমি করতে রাজি আছি কি না। নিজের ভেতরের অভিনয় সত্তা আর সুযোগের খিদেই হোক, কিংবা ভাগ্যের চাকা— আমি এক মুহূর্ত না ভেবেই সাথে সাথে ‘হ্যাঁ’ বলে দিলাম। আর এভাবেই, জিতের ‘বস’ ছবির হাত ধরেই জীবনে প্রথমবার আমার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো, যা আমার অভিনয় জীবনের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
• চৌদ্দ বছরের অভিজ্ঞতা: সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি 'ধৈর্য ও জেদ'
থামা যাবে না, হাল ছাড়া যাবে না—
স্ট্রাগলকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলার গল্পঃ
প্রশ্নঃ বস- সিনেমা-তে ছোট একটা চরিত্র করার পর কি খুব সহজেই বাকি সিনেমার অফার পেয়েছিলেন? নাকি তারপরে ও অনেক টা স্ট্রাগল করতে হয়েছিল ?
উত্তরঃ জীবন মানেই তো লড়াই, তাই স্ট্রাগল বা সংগ্রাম জিনিসটা সবসময়ই থাকবে। কিন্তু আসল খেলাটা হলো— সমস্ত বাধা সত্ত্বেও ময়দানে টিকে থাকা এবং লেগে থাকা। জীবনের প্রথম কাজটা পাওয়ার পর থেকেই মূলত অভিনয়ের প্রতি আমার একটা তীব্র নেশা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া এরকম নয় যে সবসময় যেখানেই গেছি কাজ পেয়ে গেছি। প্রচুর ঘাড় ধাক্কাও খেয়েছি। ২-৩ বছরে মাত্র ২-৩ টে সিনেমাতে কাজ করেছি, তখন কেউ চিনতোও না আমাকে। তো প্রচুর ঘাড় ধাক্কাও খেয়েছি। আর সেই নেশা থেকেই আমি বুঝেছিলাম, একই জায়গায় অবিচল ধৈর্য ধরে পড়ে থাকলে একদিন না একদিন কাজ ঠিক মিলবেই। আজ পেছনে ফিরে তাকালে, আমার এই দীর্ঘ ১৪ বছরের অভিনয় জীবনের জার্নি থেকে আমি একটা পরম সত্য খুব ভালো করে উপলব্ধি করেছি— তোমাকে শুধু নিজের কাজে লেগে থাকতে হবে। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, মাঝপথে থমকে গেলে বা হাল ছেড়ে দিলে কোনোদিনই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। যারা ধৈর্য হারিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায়, সাফল্য তাদের জন্য নয়। সাফল্য কেবল তাদেরই ধরা দেয়, যারা সমস্ত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়েও নিজের জায়গায় অনড় থাকে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াইটা চালিয়ে যায়।
• টলিউড থেকে বলিউড: ৩৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়-যাত্রার কোলাজঃ
প্রশ্নঃ এখন ও পর্যন্ত কাজ করা কিছু সিনেমার নাম ?
উত্তরঃ কেরিয়ারের শুরুটা একটা ছোট চরিত্র দিয়ে হলেও, সময়ের সাথে সাথে কাজের পরিধিটা অনেকখানি বেড়েছে। কলকাতা এবং বোম্বে (মুম্বাই) দুই ইন্ডাস্ট্রি মিলিয়ে আজ পর্যন্ত আমি প্রায় ৩৫টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। যখন পেছনে ফিরে তাকাই, তখন এই পথচলাটার দিকে তাকিয়ে নিজেরই খুব ভালো লাগে। আমার করা কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কিছু বাণিজ্যিক এবং ভিন্নধারার সিনেমা হলো— সুপারস্টার জিতের সাথে ‘বস’ (Boss), ‘গেম’ (Game), ‘বাচ্চান’ (Bachchan), ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ এবং পরবর্তীতে ‘বস ২’ (Boss 2)। কমার্শিয়াল সিনেমার পাশাপাশি থ্রিলার ও সাহিত্যনির্ভর ছবিতেও কাজ করার দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অরিন্দম শীলের পরিচালনায় ‘হর হর ব্যোমকেশ’ (Har Har Byomkesh), ‘ব্যোমকেশ পর্ব’ (Byomkesh Pawrbo) এবং ‘ঈগলের চোখ’ (Eagoler Chokh)। এছাড়া পারিবারিক ঘরানার ছবি ‘দুর্গা সহায়’ (Durga Sohay) থেকে শুরু করে একেবারে সাম্প্রতিক সময়ের ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’ (Jongole Mitin Mashi), 'লুটেরে' (Lootere)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টেও আমি যুক্ত ছিলাম। আসলে এতগুলো বছরে এত রকমের চরিত্রে অভিনয় করেছি যে হুট করে এই মুহূর্তে সবগুলোর নাম একসাথে মনে করাটাও বেশ কঠিন। তবে এই প্রতিটি সিনেমাই অভিনেতা হিসেবে আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে এবং ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে আমি ‘সোহাগে আদরে’ সিরিয়ালে কাজ করছি।
• ব্যালেন্সের লড়াই— নিজের থিয়েটার দল গঠন এবং নিয়মিত আয়ের খোঁজে ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশঃ
প্রশ্নঃ শুধুই কি সিনেমা ? নাকি সিরিয়াল ও করা হয় ?
উত্তরঃ কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে আমি মূলত সিনেমা এবং তার পাশাপাশি থিয়েটার নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। সত্যি বলতে, নাটকের প্রতি ভালোবাসা আমার রক্তে, তাই থিয়েটার আমি আগেও যেমন করতাম, আজও ঠিক তেমনই করে চলেছি। তবে প্রথমদিকে থিয়েটারের এত বেশি শো বা প্রদর্শনী থাকত যে মেগা সিরিয়ালের জন্য আলাদা করে সময় বের করা আমার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ত। প্রতিদিনের শুটিং আর নাটকের মহড়া একসাথে সামলানো বা ম্যানেজ করাটা তখন কোনোভাবেই হয়ে উঠছিল না, আর সেই কারণেই এতদিন আমার সিরিয়ালে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। তবে ২০১৯ সালের পর আমার কাজের ধারায় একটা বড় পরিবর্তন আসে। আমি ‘রঙ্গমঞ্চ’ নাট্যদলটি ছেড়ে দিয়ে নিজের একটি স্বাধীন থিয়েটার দলের ওপর পুরোপুরি ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নিই। নিজের দল হওয়ার সুবাদে নাটকের মহড়া এবং শো-এর সময়সূচিটা আমি নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার সুযোগ পাই। আর ঠিক তখনই আমার পক্ষে থিয়েটার এবং টেলিভিশনের কাজের মধ্যে একটা সুন্দর ব্যালেন্স বা সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি আরও একটি বড় বাস্তব সত্য হলো— অভিনয়ে টিকে থাকতে গেলে এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার খরচ চালাতে গেলে একটা রেগুলার ইনকাম বা নিয়মিত আয়ের অত্যন্ত প্রয়োজন, যা থিয়েটার থেকে সবসময় পাওয়া যায় না। এই আর্থিক স্থায়িত্বের জন্যই মূলত এখন আমি মেগা সিরিয়াল করছি, যা একদিকে যেমন আমাকে দর্শকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে, তেমনই অভিনয়ের দুনিয়ায় আমার লড়াইটাকে টিকিয়ে রাখার রসদ জোগাচ্ছে। (একটু হেসে)
• অন্ধকার পেরিয়ে আলোর দিশা: অবসাদ ও রিজেকশনকে জয় করার গল্পঃ
প্রশ্নঃ জীবনে কখনও তো ডাউন সময় এসেছে, সেই সময়ে কিভাবে নিজেকে সামলে ছিলেন ? পরিবারের ভুমিকা কি ছিল সেই সময়ে ?
উত্তরঃ অভিনয় জীবনে উত্থান-পতন তো লেগেই থাকে, আর আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অবশ্যই জীবনে এমন একটা ‘ডাউন সময়’ বা চরম বিপর্যয় এসেছিল, যখন আমি চারপাশ থেকে শুধু ‘রিজেকশন’ পাচ্ছিলাম। যেখানেই অডিশন দিতে যেতাম, সেখান থেকেই ফিরতে হতো খালি হাতে। কোথাও কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না, অর্থনৈতিক এবং মানসিকভাবে ভীষণ একটা অন্ধকার ও খারাপ সময় গেছে তখন। কিন্তু এত কিছুর পরেও আমি কোনোদিন ভেতর থেকে পুরোপুরি ভেঙে পড়িনি। পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, নিজেকে সবসময় শক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। মানুষ হিসেবে মন খারাপ হয়েছে, বুকভরা কষ্ট পেয়েছি, একাকীত্ব গ্রাস করেছে— কিন্তু প্রতিবারই একটা দীর্ঘশ্বাসের পর নিজেকে আবার নতুন করে সামলে নিয়েছি, লড়াইয়ের মাঠে ফিরে এসেছি। সেই কঠিন দিনগুলোতে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল খুব ভালো কিছু মনের মতো বন্ধু, যা প্রতিনিয়ত আমাকে সাহস জুগিয়েছে, ভীষণভাবে আগলে রেখেছে। আর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল আমার পরিবার। পরিবার থেকে আমি সবসময় নিঃশর্ত সাপোর্ট বা সমর্থন পেয়ে এসেছি। আজ আমি অত্যন্ত সততার সাথে স্বীকার করি যে, আমার পুরো পরিবারের এই অটুট বিশ্বাস আর ভালোবাসা যদি সেদিন আমার সাথে না থাকত, তবে সেই চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের সময়টা অতিক্রম করে আজকে একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা আমার পক্ষে কোনোদিনই সম্ভব হতো না।
সব শেষে তিনি বললেন - "সাফল্যের কোনো শর্টকাট হয় না। দীর্ঘ ১৪ বছরের পথ চলায় একটা কথাই শিখেছি— মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যেও না, নিজের জায়গায় অনড় থাকো, ভাগ্য তার চাকা ঘোরাতে বাধ্য।"